রমজানে তারাবীর নামাজ।
💟 এভাবে কিয়ামুল্লাইল আদায় করে কি তাকওয়া অর্জন সম্ভব ?
শিরোনাম দেখে অবাক হচ্ছেন বুঝি, যে আমি একথা দ্বারা কি বুঝাতে চাচ্ছি? রমজানের রোজা আমাদের উপর ফরজ করা হয়েছে কি জন্য সেটা সকলেরি জানা। মূল বিষয় তাকওয়া অর্জন নয় কি ?
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন, يٰٓأَيُّهَا الَّذِينَ ءَامَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ -অর্থ "হে ঈমানদারগন ! তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমনিভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর ফরজ করা হয়েছিল। যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো। (সূরা আল বাকারা -১৮৩)
এখানে আমরা দেখেছি যে, রোজার মাধ্যমে তাকওয়া অর্জন হবে। আর মহান আল্লাহ তায়ালা তাকওয়া অর্জনের জন্য আমাদেরকে দুইটা জিনিস একত্রে দিয়েছেন, এক- সিয়াম' দুই- কুরআন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য আমরা রোজাকে মোটামুটি গ্রহন করলেও কুরআনকে সে ভাবে গ্রহণ করতে পারিনি। যার কারণে আমরা প্রকৃত তাকওয়া অর্জন করতে পারছি না।
আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেছেন, شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِىٓ أُنزِلَ فِيهِ الْقُرْءَانُ هُدًى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنٰتٍ مِّنَ الْهُدٰى وَالْفُرْقَانِ ۚ فَمَن شَهِدَ مِنكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ ۖঅর্থ "রমজান মাস, যে মাসে কুরআন নাজিল করা হয়েছে মানুষের হেদায়াতের জন্য এবং হিদায়াতের স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারীরূপে। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে এ মাস পাবে সে যেন সিয়াম পালন করে। ( সূরা আল বাকারা -১৮৫)
আমরা লক্ষ্য করছি যে, মহাল আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এখানে কুরআন এবং সিয়াম একসাথে জড়িয়ে দিয়েছেন। হাদিস থেকে জানা যায় যে, দুই ভাবে এর সংশ্লিষ্টতা। প্রথমত সারাদিন কুরআন তেলাওয়াত করা এবং দ্বিতীয়ত রাতে কিয়ামুল্লাইল বা তারাবীহের নামাজে কুরআন পড়া বা শুনা।
এখন আসি মূল কথায়, যার জন্য এত কিছু বলা আমরা সারাদিন তো কুরআন পড়ছি না বিভিন্ন কাজের ব্যাস্ততায় অযথা সময় ব্যয় করছি। আর তারাবীহের কথা কি বলব সেতো এক আজব তামাশা ছাড়া কিছু নয়। যেখানে কথা ছিলো কিয়ামুল্লাইলে কুরআন পড়া এবং শোনা । অর্থাৎ ঈমাম সাহেব নামাজের ভিতর সুন্দর করে কুরআন থেকে তেলাওয়াত করবেন এবং মুসল্লিরা সেটা প্রাণভরে শুনে হ্নদয়ে প্রশান্তি লাভ করবেন।
কিন্তু আমরা কি করছি , ২০ মিনিটে ২০ রাকাত তারাবীহ শেষ তাতে হোক না রুকু সিজাহ ঠিকমতো আদায়(নামাজ হোক বা নাহোক দ্রুত শেষ করতে এটাই কথা)। আর তেলাওয়াত এক দুই নিঃশ্বাসে একরাকাত। যা মুসল্লিরা স্পষ্ট বুঝতে পারে না যে ঈমাম সাহেব কি পড়ছে। সাধারণ মুসল্লিদের কথা কি বলবো যারা কুরআন ভালো পড়তে পারে তারাও তো বুঝতে পারে না। আবার মুসল্লিরা বলে হুজুর ছোট ছোট দেখে তিন আয়াত মেরি দেন। নামাজ যদি কবুল না হয় এমন নামাজের প্রয়োজন আছে কি?
এখানেই তো শেষ না আবার কেউ কেউ সূরা ফিল থেকে নাস দুইবারে ২০ রাকাত, এভাবে পূরা এক মাস চালায়। মনে হয়, এই ১০ টা সূরাই পূরা কুরআন, তাহলে একমাস তারাবীহ নামাজ পড়ে ১০ টি সূরা পড়া বা শোনা এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। আর এভাবে যদি চলতে থাকে কুরআন নাজিলের মাসে কুরআন তেলাওয়াতের অবস্থা তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বা কি অপেক্ষা করছে?
আবার আমাদের ঈমান খুব মজবুত ৮ রাকাত পড়বো! ১২ রাকাত পড়লে হবে না ২০ রাকাত(২০ মিনিটে) পড়তেই হবে। যেখানে সাহাবী তাবেয়ীরা মধ্য রাত শেষ রাত পর্যন্ত তারাবীহের নামাজ দীর্ঘ ৫/৬ ঘন্টা ধরে আদায় করতো আমরা সেখানে এক ঘন্টাও সময় দিতে পারি না। এভাবে করে কি তাকওয়া অর্জন কখনো সম্ভব?
এজন্য আসুন ৮ রাকাত না ২০ রাকাত এইটা মূল বিষয় নয়। আমরা বেশি বেশি এবং সুন্দর ভাবে কুরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে কিয়ামুল্লাইল আদায় করার চেষ্টা করি। তাহলে হয়তো বা আমরা প্রকৃত অর্থে তাকওয়া অর্জন করতে পারবো। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে সঠিক বুঝ দান করুন আমিন।
আল মুজাহিদ
২৫/০৪/২০২০; রাত ১২:০৫ মিনিট
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন